গুচ্ছ কবিতা
অভিজিৎ হালদার
অরণ্যের জাগরণ
শুষ্ক পাতার মরণ-খেলা ফুরালো রে আজ বনান্তরে,
সবুজ প্রাণের কম্পন জাগে শিমুল-পলাশ থরে থরে।
দিগন্ত জুড়ি উড়ছে আজি রাঙা আবিরের ধূলিকণা,
বকুলতলায় আলপনা আঁকে রৌদ্র-ছায়ার আলপনা।
মৌমাছিদের গুঞ্জন-গানে বনের মৌন ভাঙল আজি,
ফাগুনী হাওয়ায় দুলছে যে মন— প্রাণের বীণা উঠল বাজি।
ফাগুনের অভিসার
উদাস দুপুরের ক্লান্ত আকাশ নীলচে রঙের আঁচল টানে,
বুনো ফুলের গন্ধ মেশে উদাসী এক বাঁশির গানে।
মাধবী-লতায় নবীন কুঁড়ির লাজুক হাসি ফুটল যেই,
শীতের হিমের রিক্ততা আজ আর তো কোথাও খুঁজে নেই।
কোকিল ডাকে আপন মনে বিরহ-ব্যাকুল সুরের টানে,
বসন্ত তার পরশ ছোঁয়ায় মরা গাঙেও জোয়ার আনে।
বসন্তের পত্রালী
হরিৎ রঙের কারুকাজে সাজল ধরা নতুন সাজে,
ঝিঁঝিঁ পোকার ছন্দে যেন নুপূরধ্বনি দূরে বাজে।
আমের মুকুলে সুবাস লেগেছে, মত্ত ভ্রমর আসে ধেয়ে,
বসন্তের এই নিমন্ত্রণ আজ ছড়িয়েছে সব পথ বেয়ে।
কিশলয়দের কচি ডগায় সোনালি রোদের চপল খেলা,
মাটি ও মনের মিলন-তিথির আজ যে মিলন-বেলা।
চৈত্র-শেষের গান
রুক্ষ ধূসর মৃত্তিকা-বুকে কে দিল প্রাণ-সুধা ঢেলে,
অশোক-শাখার আরক্তিম সাজ আকাশ-পানে ডানা মেলে।
চৈত্রের তাপেও স্নিগ্ধতা মাখা দখিন হাওয়ার মায়াবী টানে,
পাহাড়-নদী-অরণ্য আজ মাতল রঙিন জয়গানে।
জীর্ণ যা কিছু বিদায় নিয়েছে, পূর্ণ হলো রিক্ততা,
প্রকৃতি লিখেছে নব-জীবনের রঙিন প্রেমের সার্থকতা।
ঋতুরাজের বন্দনা
মাটির গভীরে ভাঙল ঘুম আজ আদিম মাটির গন্ধে,
বটের ছায়ায় জীবন জাগে ছন্দে-আনন্দে-দ্বন্দ্বে।
ঋতুরাজের রাজকীয় বেশ পলাশ-বনের রক্তরাগে,
স্বপ্নরা সব ডানা মেলে আজ কবির মনের অনুরাগে।
নিঝুম বনের স্তব্ধতা ছিঁড়ে রঙেরই এক ধুমধাম,
বসন্ত এলো ধরণীর বুকে মুছিয়ে দিতে সব ঘাম।

